উনিশ বিশ যেন চেনা একটি গল্পের অচেনা রুপ।
ভালোবাসা আসলে কি? ভালোবাসা কি শুধুই রোমান্স? নাকি বিরহ? ভালোবাসাকে এক এক জন এক এক ভাবে গ্রহন করে থাকে। কিন্তু মিজানুর রহমান আরিয়ান মনে হয় খুব ভালো করেই জানেন ভালোবাসা কারে কয় এবং কিভাবে করতে হয়। একটু অবাক হলেন বুঝি। যদি আপনি অবাক হয়ে থাকেন তবে দেখতে বসে যান সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত চরকির ওয়েব ফিল্ম উনিশ বিশ। আপনি সিনেমার প্রথম থেকে নিজেকে আটকে রাখতে বাধ্য হবেন এই ফিল্মটি দেখার জন্য।
উনিশ বিশ গল্পটি খুবই চেনা একটি গল্প। কিন্তু আপনি ভুলেই যাবেন কখনযে আপনি এই গল্পের ভেতরে ডুবে গিয়েছেন। কখনযে আপনি গল্পের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবেন টেরই পাবেন না। দুই মেরুর দুই মানুষ মিলেছে একটি সুতোতে। কিভাবে বন্ধুত্ব হলো কিংবা ফাজলামো করতে করতে বিয়ে হয়ে যাওয়া। কিভাবে আপনার চোখের সামনে ঘটবে টেরই পাবেন না। স্পয়লার দিতে চাইছি না তাই পুরো গল্পটি বলছি না। কিন্তু আপনার হাতে যদি ০২ ঘন্টা সময় থাকে তবে আপনার প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে দেখতে বসে যেতে পারেন উনিশ বিশ এই ফিল্মটি। দেখবেন আপনার হাতটি কখনযে, পরম ভালোবাসায় আপনার প্রিয়তমার কাধে চলে যাবে টেরই পাবেন না।
উনিশ বিশ ফিল্মটির বিশেষত্ব হলো, এই ফিল্মটি আপনাকে জোড় করে হাসাবে না। আপনি এমনিতেই হাসবেন। এবং কখনো কখনো হয়তো চোখের জল মুছবেন। কিভাবে সব ঘটবে সেটাও টের পাবেন না। খুব বেশি যে ইমোশন রয়েছে তা কিন্তু নয়। কিন্তু যতটুকু ছিল অসাধারন। হয়তো বেশি হলে ভালো নাও লাগতো তখন। এছাড়া ওয়েব ফিল্মটির আরও একটা প্রধান ভালোলাগার বিষয় হলো এখানে সাহিত্যকে এতো চমৎকার ভাবে প্রেজেন্ট করা হয়, যেটা শুনতেই সেটার সাথে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করবে। এছাড়া গান ছিল তিনটি, এবং প্রতিটি গান প্রয়োজন ছিল। অযথা কোন গান ঢুকিয়ে দেয়া হয়নি। সুর এবং গানের কথা গুলো ছিল এক কথায় অসাধারন এবং গল্পের জন্য পারফেক্ট। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কিংবা কালার ছিল চোখে ভালো লাগার মত।
এবার বলা যাক উনিশ বিশ ফিল্মটিতে কার অভিনয় কেমন ছিল। লাস্ট কবে আরোফিন শুভর এমন অভিনয় দেখেছেন মনে আছে কি? আমার মনে নেই। নিজেকে এভাবে প্রেজেন্ট করা যায় কিংবা তিনি আসলে কি পারেন সেটাকে প্রমান দেবার জন্য এই ফিল্মটি যেন তিনি বেছে নিয়েছেন। তার মুখথেকে ডায়ালগ গুলো শুনলে মনে হচ্ছিল তিনি যেন অভিনয় করছেন না। এটাই যেন বাস্তব লাইফ। বিশেষ করে কিছু কিছু দৃশ্যতে তার উপর খুব মেজাজ গরম হবে। কিন্তু সেটাই তার মনে হয় তার বড় পাওয়া। আর রইলো বাকি বিন্দু। তিনি যে আট বছর পর এভাবে জুটি বেধে আসবেন শুভর সাথে সেটা হয়তো অনেকে ভাবতে পারবেন না। কারন এত সুন্দর অভিনয় এবং হাসি হয়তো এই ফিল্মটির পুর্নতা। তিনি এতটাই সাবলিল অভিনয় করেছেন যেন মনেই হবে না যে অনেকদিন পর তিনি স্কিনে আসলেন। এছাড়া ছোট্র একটা রোলে ছিলেন তানিয়া। তিনিও যতটুকু সময় ছিলেন সেরাটাই দিয়েছেন।
পরিচালক হিসেবে মিজানুর রহমান আরিয়ান একজন সাকসেস পরিচালক আপনাকে মেনে নিতে হবে। কারন তিনি এর আগে যতগুলো কাজ করেছেন প্রতিটা কাজ ছিল দর্শক চাহিদার তুঙ্গে। এবারও তার ব্যাতিক্রম ছিল না। গত এক সপ্তাহ ধরে সোসিয়্যাল মিডিয়াতে প্রচুর চর্চা হয়েছে ফিল্মটি নিয়ে। প্রত্যেকটা দর্শক অপেক্ষা করছিল কবে আসবে উনিশ বিশ ফিল্মটি।
এই ভ্যালেন্টাইনে দারুন একটি উপহার হতে যাচ্ছে কন্টেন্ট লাভারদের জন্য। আরিয়ান জানেন কিভাবে আটিস্টকে ব্যাবহার করতে হয় এবং কার কাছ থেকে কতটুকু বের করে আনতে হয়। এ সময়ের অন্যতম সেরা একজন পরিচালক বলতে হবে।
আরফিন শুভ এবং বিন্দু অভিনীত ওয়েব ফিল্ম উনিশ বিশ ওয়েব ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন “বড় ছেলে” এবং “নেটওয়ার্কের বাইরে” খ্যাত পরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ান। এই ওয়েব ফিল্মটি দেখা যাচ্ছে চরকি ওটিটি প্লাটফর্মে। এই ওয়েব ফিল্মটির প্রযোজক হিসেবে আছেন রেদওয়ান রনি।








0 মন্তব্যসমূহ